গেন্ডারিয়া: দিনে কোটি টাকার ইয়াবা, আতঙ্কে জনপদ—নীরব আইন ?

গেন্ডারিয়া: দিনে কোটি টাকার ইয়াবা, আতঙ্কে জনপদ—নীরব আইন ?

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বুকে এমন কিছু এলাকা আছে, যেখানে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আইন যেন অদৃশ্য হয়ে যায়। গেন্ডারিয়া তার জ্বলন্ত উদাহরণ। দিনের আলোয় সাধারণ পাড়া—আর রাত নামলেই সেই পাড়া পরিণত হয় ইয়াবার অবাধ বাজারে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে মাদক বিক্রি হয় লুকিয়ে নয়—বরং প্রকাশ্যেই, নিয়ম মেনে, সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায়।

অনুসন্ধান যত গভীরে যাচ্ছে, প্রশ্ন ততই ভারী হচ্ছে—এই বিশাল ইয়াবা বাণিজ্য কেবল মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী এক নীরব ব্যবস্থাপনা?অনুসন্ধানে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য – গেন্ডারিয়া থানায় থাকা “স্পেশাল মোটরবাইক টিম”—যাদের কাজ অপরাধ দমন ও টহল—তাদের উপস্থিতির মাঝেই ইমরান ও জাবেদ পরিচালিত মাদক স্পটগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, টিম থাকা সত্ত্বেও এসব স্পটে কোনো দৃশ্যমান অভিযান না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গেন্ডারিয়া থানা এলাকার মুরগীটোলা ১০০ কাঠা গলির ভেতরে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ইমরান দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী ইয়াবা স্পট পরিচালনা করছে। একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই একটি স্পট থেকেই প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ টাকার ইয়াবা বিক্রি হয়—যার হিসাব মাস শেষে গিয়ে দাঁড়ায় কোটি টাকায় আর এই স্পটে সেলসম্যান হিসেবে রয়েছেন সুজন, তুষার,আরিফ, বাবু ।১০০ কাঠা গলির এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“এটা এখন মাদকের ব্যবসা না, এটা একটা ব্যবস্থা। সবাই জানে, কিন্তু কেউ কথা বলে না।” স্পটের মালিক ইমরান কিন্তু পাশাপাশি থাকে মুরগীটোলা ক্ষেতপাড় পাগলা বাড়ির পাশেই রেখার বাড়িতে বাড়ির ২য়তলা এক‌ই ভবনে এর শাশুড়ি থাকেন এইযে যত সব ইমরানের স্ত্রীর কাছে থাকে এবং বাড়ির মালিক নিজেই মাদক রাখতে সহায়তা করেন কিছু দিন আগে সেনাবাহিনী বাসায় অভিযান করলে মাদক ওই বাড়িতে ছিল ইমরান স্ত্রীর কাছে কিন্তু সেনাবাহিনী পাইনি সামান্য কিছু পেয়েছে পড়ে ওই মাদক ইমরানের স্ত্রী তার ছোট ভাই জাকির কে দিয়ে বিক্রি করেছেন প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার ইয়াবা বর্তমানে ইমরান কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।এই দুই এলাকাতেই পুলিশের মোটরবাইক টহল নিয়মিত দেখা যায়। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—

যেখানে এত বড় অংকের মাদক বাণিজ্য প্রতিদিন হচ্ছে, সেখানে টহল থাকলেও অভিযান কেন নেই?

একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, টহল এলেও মাদক স্পটের আশপাশে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বরং পুলিশের উপস্থিতি শেষ হলে ফের শুরু হয় আগের মতোই মাদক বিক্রি।টাকা দিলে পথ খোলা, কথা বললে বিপদ এই মাদক ব্যবসা কোনো একক ব্যক্তির নয়—এটি একটি সংগঠিত এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০০ কাঠা গলির ভেতরে নির্বিঘ্ন চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে ইমরান প্রতিদিন মজিবুর মিয়ার ছেলে আনোয়ার, দেলোয়ার ও আতিক—এই তিনজনকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই অর্থের বিনিময়ে এলাকায় “সমস্যা” হতে দেওয়া হয় না। কেউ প্রশ্ন তুললে হুমকি আসে, কেউ প্রতিবাদ করলে চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে সাধারণ মানুষ চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছে—ভয়ে, নিরাপত্তাহীনতায়।আরেক গলি, আরেক চক্র—একই কাহিনিএকই থানা এলাকার ধুপখোলা বাজার সংলগ্ন রিয়াজুল জান্নাহ মসজিদ গলির মাঝামাঝি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচতলায় গড়ে উঠেছে আরেকটি সক্রিয় ইয়াবা স্পট। অভিযোগ অনুযায়ী, এই স্পটটি পরিচালনা করছে জাবেদ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখান থেকেও প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ইয়াবা বিক্রি হয়।স্থানীয় সূত্র জানায়, এই মাদক স্পটের এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রিয়াজুল জান্নাহ গলির শাহিন। ক্রেতা–বিক্রেতার যাতায়াত, ঝুঁকি সামাল, আশপাশের পরিস্থিতি নজরে রাখা—সবই একটি নির্দিষ্ট ছকের মধ্যেই চলে।ধ্বংসের পথে তরুণ সমাজ, নির্বিকার বাস্তবতা এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব মাদক স্পটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কিশোর ও তরুণরা। স্কুল–কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতেও ইয়াবা পৌঁছে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর গলিপথ দিয়ে সন্তানদের চলাচল নিয়ে শঙ্কায় থাকেন অভিভাবকেরা।প্রশ্ন উঠছে—প্রতিদিন এত বিপুল অংকের ইয়াবা বিক্রি হলে তা কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা থাকতে পারে?

নাকি জানার পরও না জানার নীরবতা এখানে সবচেয়ে বড় অপরাধ?প্রশাসনের বক্তব্য নেই, প্রশ্ন রয়ে যায়এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে উল্লিখিত মাদক স্পটগুলোতে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় গেন্ডারিয়া শুধু একটি থানা এলাকা নয়—পরিণত হবে মাদকের এক নির্ভীক অভয়ারণ্যে।

ডিএমপি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মুঠো ফোনে জানান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ীরা একটু সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে তবে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

এবিষয়ে গেন্ডারিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *