ভাষাণটেক থানায় মোটা অংকের অর্থ দিলেই সব বৈধ—আইন এখানে নীরব দর্শক।

  • ভাষাণটেক থানায় মোটা অংকের অর্থ দিলেই সব বৈধ—আইন এখানে নীরব দর্শক।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

যে থানার দায়িত্ব জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেই থানাই এখন অভিযোগের পাহাড়ে চাপা পড়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভাষাণটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নীরব সমর্থন কিংবা প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে চলছে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। অর্থ থাকলে অপরাধ এখানে আর অপরাধ থাকে না—এমনই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয়দের বক্তব্যে।অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, অবৈধ ভাবে জমি দখল, অনুমতিহীন মেলা ও বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং প্রভাব বিস্তারমূলক নানা কর্মকাণ্ড থানার অঘোষিত অনুমোদনেই পরিচালিত হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ দিলেই সব হয় । অভিযোগ রয়েছে, যারা অর্থ দেয় তারা আইনের ঊর্ধ্বে, আর যারা প্রতিবাদ করে তারা হয়রানি, ভয়ভীতি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়।অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাষানটেক থানার ওসি কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুদের খেলার মাঠ দখল করে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অনুমতি তোয়াক্কা না করেই শিল্প বাণিজ্য মেলা বসিয়েছে আর এই চক্রের প্রধান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সজিবকে সহায়তা করেছেন ওসি ।

জানা যায়, ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প (বিআরপি)—যে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীর হাজার হাজার ভূমিহীন পরিবারের আবাসন নিশ্চিত করা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার পরিবেশ সৃষ্টি—সেই প্রকল্পের ভেতরেই এখন প্রকাশ্যে চলছে আইনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যক্রম। শিশুদের জন্য নির্ধারিত একটি খেলার মাঠ দখল করে কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছে শিল্প-বাণিজ্য মেলা আর এই আয়োজনে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে সহায়তা করেছেন ওসি । আর এই অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন উঠছে, তা হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা।কিসের বানিজ্য মন্ত্রনালয় অথবা পুলিশ কমিশনার সব কিছুই ওসি ভাষানটেক ?অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেলাটি আয়োজনের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো লিখিত অনুমোদন নেই। নেই ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও। তা সত্ত্বেও প্রতিদিন শতাধিক স্টল, রাইড ও দোকান থেকে স্টল ভাড়ার নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি ভাষানটেক থানার অফিসার ইনচার্জের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজিব লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।শুধু তাই নয় জমি দখল সহ মাদক ব্যবসা হচ্ছে প্রকাশেই কিছু বলতে সাহস পায় না স্থানীয় এলাকাবাসী এছাড়াও একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, এইতো কয়েক দিন হলো  তিনি এসেছেন তারপর থেকেই প্রকাশেই মাদক ব্যবসা জমি দখল সহ বিভিন্ন অপরাধের স্বর্গরাজ্য হয়ে গেছে এবং থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমেই শুরু হয় দর কষাকষি। অর্থ না দিলে অভিযোগ গ্রহণে টালবাহানা, জিডি বা মামলা নিতে অস্বীকৃতি, এমনকি অভিযোগকারীর পরিচয় অপরাধীদের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি। এতে করে থানাই পরিণত হয়েছে অপরাধীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই দুর্নীতির ছত্রছায়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যেই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, “থানায় গেলে নিরাপত্তা নয়, উল্টো বিপদ বাড়ে।”আইন বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা কাঠামোর প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। থানার ভেতর থেকেই যদি অপরাধের ব্যবস্থাপনা চলে, তাহলে আইনের শাসন একটি ফাঁপা স্লোগানে পরিণত হয়।এবিষয়ে ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ জানান মেলা মসজিদ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে অনুমতি বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু বলবেন না এবং মাদক ও জমি দখল চাঁদাবাজি বিষয়টি নিয়ে তিনি কোন মতামত দিবেন না বলে মুঠো ফোন রেখে দেন ।এদিকে যুব খেলাফত মজলিসের দপ্তর সম্পাদক প্রতিবেদক জানান মসজিদ কমিটি মেলার আয়োজন করেছেন বিষয়টি ইসলাম বিদ্বেষী এই দেশে এমন কোন মসজিদ কমিটি নেই যে এই মেলা গান বাজনা বিষয়টি নিয়ে আয়োজক ওসি নিজের স্বার্থ হাসিল করতে এই পথ অবলম্বন করছেন ।অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইজিপি ও পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এইচ আরএইচএফ আইন সহায়তা কেন্দ্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *