
এনসিপি: মুখোশের আড়ালে প্রতারণার রাজনীতি
লেখক: নাজিম রুবেল,কলামিস্ট ও সমাজকর্মী,লন্ডন থেকে
ডেস্ক রিপোর্ট ঃ এক সময় অনেকেই ভেবেছিল, এনসিপি রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করবে। তারা বলেছিল, “আমরাই আনবো পরিবর্তন, আমরাই গড়বো সৎ ও আদর্শনিষ্ঠ নেতৃত্ব।” কিন্তু আজ সময় প্রমাণ করেছে, এনসিপি আসলে কোনো আদর্শের দল নয়; বরং এটি একদল সুবিধাবাদীর মিলিত ব্যবসায়িক চক্র, যারা রাজনীতিকে ব্যবহার করেছে ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে।রাজনীতি কখনও শূন্যস্থান সহ্য করে না। যখন নীতি ও ত্যাগ হারিয়ে যায়, তখন সেই জায়গা দখল করে লোভ ও প্রতারণা। এনসিপির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তারা জনগণের আবেগ নিয়ে খেলেছে, পরিবর্তনের নামে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছে, অথচ নিজেরা জড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ক্ষমতার দৌড়ে।ইউনুসসহ তাদের তথাকথিত উপদেষ্টারা বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ঘেরা। কানাডা, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা কিংবা ইউরোপ—সব জায়গায় এনসিপির নেতাদের গোপন সম্পদের গল্প এখন খোলামেলা আলোচনা। যারা জনগণের বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিল, তারাই এখন সেই বিশ্বাস বিক্রি করে সেফ এক্সিটের চিন্তায় ব্যস্ত।এনসিপির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো—তারা জনগণকে হারিয়েছে। আজ তাদের রাজনীতি মাটিতে নেই, জনআস্থার জায়গা নেই, কেবল কিছু মিডিয়া শো আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এনসিপি এখন এমন এক নাম, যাকে শুনলে মানুষ রাজনীতির আশা নয়, প্রতারণার গন্ধ পায়।একসময় যে “সততা”র কথা বলত, আজ সেই দলটাই দুর্নীতির প্রতীক। এনসিপি নিজেদের বড় শক্তি মনে করত, কিন্তু বাস্তবতা হলো—তারা কেবল এক অস্থায়ী ঢেউ, যা এখন ইতিহাসের তীরে ভেঙে পড়ছে।আজ এনসিপির অবস্থা এমন, যেন তারা নিজেদের মুখে নিজেরাই তালা মেরে দিয়েছে। কোনো স্পষ্ট আদর্শ নেই, নেই জনগণের আস্থা, নেই নৈতিক অবস্থান। এনসিপি এখন কেবল মুখোশে ঢাকা এক গোষ্ঠী, যেখানে রাজনীতি মানে লেনদেন, আর নেতৃত্ব মানে চুক্তি।জনগণ আজ বুঝে গেছে—এনসিপি মানে প্রতারণা,এনসিপি মানে ভণ্ডামি।এনসিপি মানে আদর্শহীন সুবিধাবাদ।রাজনীতি কখনও প্রতারণায় টিকে না। জনগণ সব দেখে, সব মনে রাখে। যে দল জনগণের বিশ্বাসকে পদদলিত করে, তার ভবিষ্যৎ কখনও উজ্জ্বল হয় না।
এনসিপির ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার নয়—বরং নিশ্চিত পরিসমাপ্তির পথে।