মাদক ও জুয়ার বিষয়ে পুলিশের নিরব ভূমিকা ?

*হোমনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ”কে নিয়ে জনমনে একটি প্রশ্ন? *

এযেন কাঠের চশমা”য় ধরেছে মরিচা ?
ভরদুপুর, সূর্য যেন ঠিক মাথার উপর থেকে তা দিচ্ছে। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ একটু ছায়া খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ঠিক তখনই কুমিল্লা জেলার হোমনা থানাধীন পৌরসভার সামনে
কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে নাফিসা আক্তার (ছদ্দ নাম) নামক এক গৃহিণী অশ্রুসিক্ত চোখে তার স্বামীকে খুঁজতে এসেছে আর তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালে শোনা যায়, ২২ মে রাতে তাকে মারধর করে তার বাবার দেওয়া স্বর্ণ অলংকার নিয়ে এসেছে হোমনা থানাধীন ১ নং ওয়ার্ড বাহেরখোলা কবরস্থান রোডের শেষ দিকে নসু সিন্ডিকেটের জুয়ার আসরে।
বিষয়টি জানতে আগ্রহ হয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করলাম ওই গৃহিণী তিনি কোন এক আত্মীয়কে যেন মোবাইল ফোনে কান্না করছেন‌ ও বলছেন গৌরিপুর স্ট্যান্ডে দোকান শেষ করেছেন এখন তাকে মারধর করে স্বর্ণ অলংকার নিয়ে এসেছেন এবং তার আত্মীয়কে অনুরোধ করেছেন মুঠোফোনে যেন হোমনা পৌরসভার সামনে আসার জন্য ওই গৃহিণী।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদক অনুসন্ধান করলে জানা যায়, সম্প্রতি সময়ে ক্যাসিনোবিরোধী সকল ধরনের জুয়া খেলা রাজধানীসহ সারাদেশে ক্লাবপাড়া সহ সকল জুয়ার আস্তানা তছনছ হলেও কয়েক বছর ঘুরতেই ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে এ চক্র। এখন আর রাজধানীর ঢাকা ক্লাব গুলোতে জুয়া খেলা হচ্ছে না কৌশল অবলম্বন করে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার গ্রাম এলাকায় এসকল সিন্ডিকেট আবারো জমজমাট জুয়ার আসর চালিয়ে আসছে আর এই আসরে জুয়ারিদের জন্য রয়েছে মাদকদ্রব্য সেবনের সুব্যবস্থা প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয় এই আসরে এবং ইয়াবা নামক মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায় ।
বিষয়টি নিয়ে আরো অনুসন্ধান করলে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ হোমনা উপজেলা ১নং ওয়ার্ড বাহেরখোলা কবরস্থান রোডের শেষ দিকে অস্থায়ী ভাবে বেশ কয়েকটি রুম উঠিয়ে জমজমাট ভাবে সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে আসছে শতশত মানুষের সমারোহ জুয়ার আসর ও মাদকের আসর আর এই আসরে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটির জুয়া বানিজ্য হয়ে থাকে তবে নেই কোন থানা পুলিশের অভিযান এক পর্যায়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে জুয়ার আসরটি চালিয়ে আসছে নসু গং এর একাধিক সদস্যরা ।
কুমিল্লা জেলার একাধিক জুয়ারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার ক্লাবের জুয়া বন্ধ থাকলেও জুয়া খেলা মোটেই থেমে নেই। হোমনা উপজেলার বাহের খোলার জুয়ার আসর ৫ আগস্টের পর ১ মাসের মতো বন্ধ ছিলো তারপর আবারো শুরু করেছেন নসু সিন্ডিকেটের জুয়ার আসর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাহের খোলা এলাকার একাধিক বসবাসরত বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রতিনিয়ত নসু মিয়ার জুয়ার আসরে বিভিন্ন স্থান থেকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শতশত মানুষের সমারহ জুয়ার আসর চলছে
কতো মানুষ যে  নিঃস্ব হয়ে গেছে এই জুয়ার আসর থেকে এবং স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে যাচ্ছে কিন্তু নেই কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এজন্য নসু মিয়া জুয়ার আসর মতো এমন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে । কতিপয় কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা ম্যানেজ করেই চালিয়ে আসছে এই জুয়ার আসর এছাড়াও নসু সিন্ডিকেটের রয়েছে পালিত সন্ত্রাসী তাই ভয়ে কিছু বলতে পারি না এবং প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো জুয়া নিয়ন্ত্রণকারীদের পালিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হতে হয় ।
জানা যায়, নসু মিয়ার জুয়ার আসরে বসছে বাহারী নামের জুয়া যেমন তিন তাস, নয় তাস, কাটাকাটি, নিপুণ, রেমিসহ নানা নামের জুয়া লোভ সামলাতে না পেরে নিম্ন আয়ের মানুষ অনেকেই পথে বসছেন এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুয়াড়ি সাথে কথা বললে তিনি জানান প্রতিনিয়ত বাহেরখোলা নসু মিয়ার জুয়ার আসরে খেলতে আসেন । তিনি আরো জানান দীর্ঘদিন যাবৎ খেলতে আসি নসু মিয়ার জুয়ার আসরে এখন পর্যন্ত কোন পুলিশের কোন ঝামেলা দেখি নাই নির্ভয়ে খেলা হয়। তিনি আরো বলেন নসু মিয়া আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি হোমনা থানার ওসি স্যার”কে ম্যানেজ করে জুয়া বসিয়েছে তাই আমি দাউদকান্দি থেকে খেলতে আসি নির্ভয়ে ।
এবিষয়ে জানতে জুয়া নিয়ন্ত্রনকারী নসু মিয়ার মুঠোফোন ০১৮……..৫৭ এ যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন এখানে খেলাধুলা হয় হোমনা উপজেলার সবাই জানেন থানার ওসি স্যার ও জানেন এই ব্যাবসা করতে হলে সবাইকে ম্যানেজ করেই করতে হয় নিউজ করে আর কি হবে আসেন ও প্রতিবেদক ম্যানেজ করতে চা খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয় ।
এ বিষয়ে জানতে হোমনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ”র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *