ভাটারা থানার ফ্যামিলি বাজারের সামনে চলছে ক্যাসিনো ধরনের জুয়ার আসর—স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এলো শ্রমিক দল নেতা আমানুল্লাহ আমানের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর ভাটারা থানার অন্তর্গত ফ্যামিলি বাজারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো-ধরনের জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতভর মাদক–জুয়ার এই অবৈধ আসর এখন ‘স্থায়ী স্পট’-এ পরিণত হয়েছে, আর এই পুরো নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার পেছনে শ্রমিক দলের বাড্ডা থানার সভাপতি আমানুল্লাহ আমানের নামও উঠে এসেছে অভিযোগে।ফ্যামিলি বাজারের সামনে রাতভর জুয়া—বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকেই ওই স্থানে অপরিচিত লোকজন ভিড় করতে থাকে। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাসিনো-ধরনের দ্রুত জুয়া খেলা হয় এবং প্রচুর অর্থ লেনদেন চলে। এ কারণে পুরো এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।একজন স্থানীয় দোকানদার বলেন—“রাতে এমন ভিড় হয় যে, মনে হয় এখানে বড় কোনো অনুষ্ঠান চলছে। কিন্তু আসলে চলে জুয়া, মাদক আর অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা।”জুয়ার পাশাপাশি মাদক সরবরাহ—চক্র আরও শক্তিশালী হচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জুয়া নয়, একই স্থানে ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদকের লেনদেনও হয়। এতে কিশোর–তরুণরা বিপথে যাচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।অভিযোগের কেন্দ্রে শ্রমিক দল নেতা আমানুল্লাহ আমান স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন—“শ্রমিক দলের বাড্ডা থানার সভাপতি আমানুল্লাহ আমানের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এই ক্যাসিনো–জুয়ার সিন্ডিকেট এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার আশ্রয়–প্রশ্রয়ে পুরো চক্র নির্ভয়ে কাজ করছে।”তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, বহুবার অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাময়িক টহল বা ছোটখাটো অভিযান হলেও জুয়ার আসর বন্ধ হয় না। বরং প্রতিদিন নতুন লোক যুক্ত হচ্ছে।একজন অভিভাবক বলেন—“দিনে ভদ্র এলাকা, রাতে অপরাধীদের দখলে। প্রশাসন চোখ বন্ধ করে আছে কেন, আমরা বুঝতে পারি না।”অবিলম্বে কঠোর অভিযান দাবি স্থানীয়রা তিন দফা দাবি তুলেছেন—ফ্যামিলি বাজার সংলগ্ন ক্যাসিনো–ধরনের জুয়ার আসর স্থায়ীভাবে বন্ধ মাদকচক্র ও জুয়ার সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থাভাটারা এলাকায় নিয়মিত টহল ও ক্যামেরা নজরদারি
তাদের ভাষ্যে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভাটারা পুরোপুরি অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।