নগর প্লাজা মার্কেটে ‘গ্যাং স্টাইলে’ চাঁদাবাজির রাজত্ব: প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া তাজু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নগর প্লাজা মার্কেট-এ দীর্ঘদিন ধরে সুমন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অবৈধ বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই গ্যাং।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন মার্কেটের বেতর অবৈধভাবে প্রায় ৫০টি দোকান নির্মাণ করে সেগুলো থেকে প্রতিমাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন। এমনকি বাথরুম ও খোলা জায়গাও বাদ যাচ্ছে না। এসব স্থানেও দোকান বসিয়ে ভাড়া আদায় চলছে দিনের পর দিন।
চাঁদাবাজির ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে এক দোকানি জানান, “মার্কেটের সামনের ফুটপাত জবরদখল করে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে টেনে প্রতিটি দোকান থেকে ১২০০ টাকা করে মাসে নেওয়া হচ্ছে। আবার গ্রাউন্ড ফ্লোরে দোকান করে দেওয়ার নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সুমন গ্যাং।”
সভাপতি জানান, “৫ আগস্টের পর সুমন, বহিরাগতদের দিয়ে সভাপতি কে মারধর করে মার্কেট থেকে বের করে দেয়। কারণ আমি মার্কেট চলাকালীন চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর ছিলাম। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সুমন, একেক সময় একেক রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে নিজের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশন, থানা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত সুমন,এ-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, “মার্কেটে খালি জায়গা পড়ে থাকলে আমি দোকান বসাই। সিটি কর্পোরেশন যদি কিছু না বলে, তাহলে সমস্যা কোথায়? আমি আলাউদ্দিনের চেরাগ নিয়ে বসে আছি, কেউ কিছু করতে পারলে করে দেখাক।”
মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ী এই ধরণের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারে দোসোররা মার্কেট দখলে নিয়েছে। প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, যেন সবই তাজুর ছাড়পত্রে চলছে।”
তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।