রাজশাহীর বিদ্যালয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ: সনদে রাজনৈতিক স্লোগান থেকে প্রশাসনিক অনিয়ম পর্যন্ত

রাজশাহীর বিদ্যালয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ: সনদে রাজনৈতিক স্লোগান থেকে প্রশাসনিক অনিয়ম পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী

রাজশাহীর এক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিতরণ করা সনদপত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে রাজনৈতিক স্লোগান যুক্ত হওয়ায় এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে স্কুল প্রশাসন সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়ম, অর্থনৈতিক অনিয়ন্ত্রণ ও পক্ষপাতমূলক কার্যক্রমের অভিযোগও উঠে এসেছে।সনদ বিতরণে রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে বিতর্ক বিদ্যালয়টির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহে। সেখানে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। কিন্তু বিতরণকৃত সনদে শেখ হাসিনাকে নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহার করা হলে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টিকে অনভিপ্রেত ও অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রতীক হওয়া উচিত। এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা

সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি (বিধি ৬–১০) অনুযায়ী।রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বিদেশি পুরস্কার, পদবি বা উপাধি গ্রহণ করতে পারবেন না।কোনো কর্মকর্তা নিজের সম্মানে সভা বা গণজমায়েত আয়োজন করতে পারবেন না।

সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো তহবিল বা চাঁদা সংগ্রহ করা যাবে না।

কোনো কর্মকর্তা ঋণ দেওয়া বা নেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়াতে পারবেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সনদে রাজনৈতিক বার্তা যুক্ত করা এবং অনুষ্ঠানকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রচারণার প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা আচরণবিধির চেতনার পরিপন্থী। বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিল, পরীক্ষার ফি এবং ক্রীড়া অনুদান তহবিলের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

বছর শেষে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করে কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি কয়েকটি প্রকল্পে অনুদান গ্রহণের পরও কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষক নিয়োগে পক্ষপাত ও অনিয়ম

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নেই। কিছু শিক্ষক রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা যায়।

একজন সাবেক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিদ্যালয় প্রশাসনের অভ্যন্তরে একদল শিক্ষক নিজেদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন, যেটা শিক্ষা পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিভাবকদের দাবি

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না হলেও উপস্থিতি দেখানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলেও প্রভাব খাটানো হয় বলে তাদের অভিযোগ।

অভিভাবক সমিতির এক সদস্য বলেন, “বিদ্যালয়টি এখন রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের দৃষ্টি না পড়লে শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে যাবে।”

প্রশাসনিক তদন্তের দাবি

স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমাজের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রতিচ্ছবি। সেখানে যদি সরকারি আচরণবিধি, অর্থনৈতিক নিয়ম বা নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রাজশাহীর এই বিদ্যালয়ের ঘটনা শুধু একটি স্কুলের নয়—এটি শিক্ষা খাতের জবাবদিহিতার প্রয়োজনী

য়তার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *